সংবাদ শিরোনাম: |
কলাপাড়ায় ১৫ বছর পর বিএনপি নেতার বসতবাড়ী দখল, পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা, লুটপাটসহ অস্ত্রের মুখে বসতবাড়ী লিখে নেয়ায় সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো: মাহবুবুর রহমান, তার ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: হাবিবুর রহমান, সাবেক পৌর মেয়র, পৌর আওয়ামীলীগ সভাপতি বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সম্পাদক ও সাবেক অধ্যক্ষ মো: শহিদুল ইসলাম, টিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান সুজন মোল্লাসহ আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের ২৭ নেতা-কর্মীর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা রয়েছে আরো ১৫/২০ জন।
মঙ্গলবার ১০ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে কলাপাড়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আশীষ রায়ের আদালতে উপজেলা বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মো: খলিলুর রহমান চুন্নুর নালিশী মামলা আমলে নিয়ে ওসি কলাপাড়াকে এজাহার গ্রহনের নির্দেশ দেন। বাদীপক্ষের নিযুক্তীয় কৌশুলী এ্যাড,মো: খন্দকার নাসির উদ্দিন ও আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: কাইউম এ আদেশের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
মামলার বিবরনে বলা হয়, ২রা সেপ্টেম্বর ২০০৯ খ্রী: সন্ধ্যায় বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো: মাহববুর রহমান ও তার ছোট ভাই অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: হাবিবুর রহমানের হুকুমে ও নেতৃত্বে সকল আসামীরা অস্ত্রের মুখে বাদীর বসতবাড়ী দখল, পরিবারের সদস্যদের হত্যা চেষ্টায় আঘাত-আক্রমনসহ লুটপাট চালিয়ে বাদীর স্ত্রী ও কন্যার ব্যবহৃত ৭ লক্ষ টাকা মূল্যমানের ৭ ভরি স্বর্নালঙ্কার লুট করে নেয় এবং বসতবাড়ী ভাঙচুর করে ১ লক্ষ টাকার ক্ষতিসাধন করে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর ২০০৯ খ্রী: রাতে আসামীরা বাদীকে অপহরন করে সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বাসায় নিয়ে অস্ত্রের মুখে নন জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে টিপ সহি ও স্বাক্ষর নিয়ে বাদীর দেড়কোটি টাকা মূল্যমানের সাড়ে ৪ শতাংশ জমি জোড় করে লিখে নেয়। জমি লিখে না দিলে পেট্রোল দিয়ে বাদীসহ তার পরিবারের সদস্যদের পুড়িয়ে মেরে ফেলার হুমকী দেয় সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব মাহবুবুর রহমান। এরপর ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৯ খ্রী: রাতে আসামীরা বাদীর বসতঘর জবরদখল করে ১৪ লক্ষ টাকা মূল্যমানের আসবাবপত্র দখল করে নেয়। বাদীর স্ত্রী বাড়ীঘর ছাড়ার শোকে বিহবল হয়ে মৃত্যুবরন করে। আসামীদের ক্ষমতার দাপটে থানা পুলিশ মামলা না নিয়ে বাদীকে উল্টো মিথ্যা হয়রানীমূলক মামলায় জেল খাটানোর হুমকী দেয় বলে বাদী তার মামলায় উল্লেখ করেন। দেশে বর্তমানে নিরপেক্ষ সরকার থাকায় বাদী ন্যায় বিচার পেতে মামলা দায়ের করেনে।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বলেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পেয়ে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।